অবশেষে যু’দ্ধবিরতি…

যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব হাতে পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে ইরান। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রস্তাব ইরানের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। একই সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে সম্ভাব্য আলোচনার স্থান হিসেবে পাকিস্তান বা তুরস্ক বিবেচনায় রয়েছে। খবর রয়টার্সের।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তার বক্তব্য থেকে ধারণা পাওয়া যায়, প্রকাশ্যে অস্বীকার করলেও তেহরান কূটনৈতিক প্রস্তাব বিবেচনা করছে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কয়েকদিন ধরে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে দাবি করে আসছেন, ইরান তা আনুষ্ঠানিকভাবে নাকচ করে এসেছে।

এর আগে আল জাজিরার সাংবাদিক ওসামা বিন জাভাইদ জানান, ট্রাম্প প্রশাসন পাকিস্তানকে একটি নথি দেয়, যাতে যুদ্ধবিরতির শর্তগুলো উল্লেখ ছিল। পরবর্তীতে পাকিস্তান সেই নথি ইরানের কাছে হস্তান্তর করে। বর্তমানে ইরানের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষা করা হচ্ছে।

এদিকে তুরস্ক জানিয়েছে, তারা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বার্তা আদান–প্রদানে ভূমিকা রাখছে। দেশটির ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির বৈদেশিকবিষয়ক ভাইস চেয়ারম্যান হারুন আরমাগান বলেন, আংকারা দুই দেশের মধ্যে বার্তা পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন মতে, ইরানি সূত্রটি যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের ব্যাপারে বিস্তারিত জানাননি। গণমাধ্যমে প্রকাশিত ১৫ দফা যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের সঙ্গে এটি একই কি না, সেটাও নিশ্চিত করেননি। তবে তিনি বলেন, তুরস্ক যুদ্ধ থামাতে ভূমিকা রাখছে এবং সম্ভাব্য আলোচনার স্থান হিসেবে তুরস্ক বা পাকিস্তান—দুটিই বিবেচনায় আছে।

গত মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিরসনে ইরানের কাছে ১৫ দফার একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই ১৫ দফা পরিকল্পনার খবর প্রকাশ পাওয়ার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম কিছুটা কমে এবং শেয়ারবাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়। প্রায় চার সপ্তাহ ধরে চলা এই যুদ্ধে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।

রয়টার্স তাদের প্রতিবেদনে আরও জানিয়েছে, একটি সূত্র জানায়, মঙ্গলবারই এই পরিকল্পনা ইরানের কাছে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে ইসরাইলের বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভাকেও এই প্রস্তাব সম্পর্কে অবহিত করা হয়। সূত্রগুলো বলছে, প্রস্তাবে রয়েছে— ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ সরানো, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা এবং আঞ্চলিক মিত্রদের অর্থায়ন বন্ধ করা।

এদিকে এর মধ্যেই মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন উপসাগরীয় অঞ্চলে আরও হাজার হাজার মার্কিন সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা করছে, যাতে প্রয়োজনে স্থল হামলার বিকল্প খোলা থাকে। এর সঙ্গে আগে থেকেই পাঠানো মেরিন বাহিনীর সদস্যরাও যুক্ত হবে। একটি বড় উভচর যুদ্ধজাহাজে থাকা প্রথম মেরিন ইউনিট মাসের শেষের দিকে সেখানে পৌঁছাতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *